fbpx

যে বইগুলো IELTS-এ আপনাকে 7+ স্কোর এনে দিবে!!

IELTS প্রস্তুতি অনেকের কাছেই বেশ জটিল। এর কারন, IELTS সম্পর্কে চারপাশে এত তথ্য আর মেটেরিয়াল আছে যে, কোনটা পড়া ভাল হবে, কিভাবে পড়া উচিৎ হবে সে সম্পর্কে আমাদের অনেক সময় বিভ্রান্তিতে পরতে হয়। আজ তাই আলোচনা করব, IELTS প্রস্তুতির জন্য কোন কোন বই গুলো সবথেকে ভাল কাজে দিবে।

কোন কোন বই পড়তে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করার আগে কিছু কথা জানিয়ে রাখা ভাল-

১। আপনি কি বই পড়ছেন তার চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল আপনি কিভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন! বাজার থেকে কিছু বই কিনে ঢালাও ভাবে ‘খতম’ দিলেই যে আপনি কাংক্ষিত স্কোর পাবেন এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই। বরং, আপনি কি পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, দিনে কতটুকু সময় দিচ্ছেন,  আপনার কোন বিষয়ে পড়তে আগ্রহ বেশি তার উপর বেশি নজর দিন।

২। শুধু বই পড়লেই আপনার ইংলিশের দক্ষতা বাড়বেনা। দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ইংলিশ চর্চা করতে হবে। ইংলিশে মাঝে মাঝে কিছু লেখা, কথা বলা অনুশীলন করা, ইংলিশ মুভি দেখা বা পডকাস্টিং শোনা ইত্যাদি আপনার দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজে আসবে। তাই কেবল বই নিয়ে পড়লেই আপনার স্কোর ভাল আসবে না, আপনাকে সেই বইয়ের বিষয় বস্তু বুঝতে হবে, যে দক্ষতা গুলোর কথা বলা হয়েছে সেগুলো বাড়ানোর জন্য চর্চা করতে হবে।

৩। IELTS প্রস্তুতি একটি সময় সাপেক্ষ বিষয় (যদি না আপনি খুবই মেধাবী হন)। তাই একবারে এক গাদা বই না কিনে প্রয়োজনীয় কিছু বই নিয়ে শুরু করুন। একটি বই শেষ করে সেটি আবার রিভাইস দিন। একটা বইয়ের বিষয় বস্তু ভালোভাবে বোঝা, ১০ টা বই ভাসা ভাসা ভাবে বোঝার থেকে অনেক বেশি কার্যকর। তাই একটা বই রিভিশন শেষ করে আরেকটি বই ধরুন। ২ মাসে ১০ টা বই খতম দিবেন, এমন চিন্তা নিয়ে না আগানোই ভাল। তাতে সময় বাঁচবে না বরং অপচয় হবে।

এবার তবে জানা যাক কোন বই গুলো প্রস্তুতির জন্য ভাল সহায়ক হবে-

Official Cambridge Guide To IELTS  

IELTS প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের টিপ্স ও গাইড লাইন এই বইটিতে আছে। কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন, কি ধরণের প্রশ্ন থাকে, কোন দক্ষতা গুলোর উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ ইত্যাদি সহ কিছু প্রাক্টিস টেস্টও আছে এই বইয়ে। পরীক্ষাতে কেমন প্রশ্ন আসবে এবং একজন একজামিনার আপনার কাছে কি প্রত্যাশা করে সে সম্পর্কে বেশ ভাল ধারণা পাবেন এই বইটি থেকে। জেনারেল ট্রেইনিং ও একাডেমিক সহ মূল চারটি দক্ষতার উপর কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন সে সম্পর্কে বেশ ভাল গাইড দেয়া আছে এতে। যেহেতু বইটি Cambridge Publication থেকে প্রকাশিত, তাই এর গাইডলেইনের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন। তবে বলে রাখা ভাল, রিটেন টেস্ট, রিডিং টেস্ট ইত্যাদির উপর বিস্তারিত ধরণা এই বই থেকে পাবেন না, তার জন্য কিছু সহায়ক বই লাগবে।

Collins English for Exams

কলিন্স সিরিজে ইংরেজী ভাষার চারটি দক্ষতার উপর (Reading, Writing, Listening, Speaking) চারটি আলাদা বই রয়েছে। এই বইগুলোতে দক্ষতা অনুযায়ী প্রাকটিস টেস্ট সহ কিভাবে অনুশীলন করতে হবে তার গাইড লাইন দেয়া আছে। Official Cambridge Guide To IELTS বইটি যেমন আপনাকে সার্বিক প্রস্তুতির ধারনা দিতে সহযোগিতা করবে তেমনি কলিন্সের বইগুলো আপনাকে প্রত্যেকটা ভাষা দক্ষতায় আরো ভালো করতে সহযোগিতা করবে। এই বই গুলোর প্রত্যেকটা টেস্টই অথেনটিক।

English Grammar in Use – Roymond Murphy

যারা IELTS প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং গ্রামারে দুর্বলতা আছে তাদের জন্য এটা খুবই কার্যকর একটা বই। এই বইটিতে খুব সহজ ভাবে এবং বাস্তব উদাহরণ দিয়ে গ্রামারের প্রত্যেকটি বিষয় বোঝানো হয়েছে। আমাদের দেশের গতানুগতিক গ্রামার বইয়ের, ‘ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গেল’ জাতীয় উদভট উদাহরণ না দিয়ে বরং দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে সকল কাজ করি তাতে গ্রামারের শুদ্ধ ব্যবহারের উদাহরণ দেয়া আছে এই বইটিতে। IELTS পরীক্ষাতেও দৈনন্দিন জীবনের গ্রামার ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়, তাই এই বইটি পড়লে খুব সহজেই আপনি গ্রামারের উত্তরগুলো দিতে পারবেন। বইটি ইংলিশে লেখা হলেও ঘাবড়ানোর কিছু নেই। খুব সহজ ভাষায় ছোট ছোট উদাহরণ দিয়ে এখানে বিষয়বস্তু গুলো বোঝানো হয়েছে।

Cambridge Vocabulary for IELTS

IELTS এ ভাল স্কোর তোলার জন্য ভোকাবুলারি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অনেক সময় শুধু ভোকাবুলারিতে ভাল দখল না থাকার কারণে কাংক্ষিত স্কোর তোলা সম্ভব হয় না। তাই প্রয়োজনীয় শব্দ জানার পাশাপাশি কোথায় কিভাবে ব্যবহার করতে হবে তা জানা জরুরী। IELTS এ যে ধরণের ভোকাবুলারি ব্যবহৃত হয় তা নিয়ে এই বইটি রচিত। বইটি প্রয়োজনীয় শব্দ সহ অনুশিলনী আছে যাতে শব্দগুলো মনেরাখা সহজ হয় আর শব্দের ব্যবহার সম্পর্কে ভাল ধারণা পাওয়া যায়।

Cambridge IELTS Series

সব শেষে যে বইগুলোর কথা না বললেই নয় তা হল Cambridge Publication এর IELTS Series টি। এটি মূলত ২ ধরণের হয়। ‘জেনারেল ট্রেইনিং’ যারা বাহিরে থাকার জন্য যেতে চান তারা ব্যবহার করেন আর ‘একাডেমিক’ যারা বাহিরে পড়ালেখার জন্য যেতে চান তারা ব্যবহার করেন। অনেকেই ভাবছেন আসল বইয়ের কথা সবার শেষে এসে বলছি? এই বইগুলো মূলত প্রাক্টিস টেস্ট দেয়ার জন্য। প্রত্যেকটি খন্ডে ইংলিশের ৪টি দক্ষতার উপর বিভিন্ন অফিশিয়াল টেস্ট ও উত্তর দেয়া আছে, তবে কিভাবে আপনি নিজের দক্ষতা বাড়াবেন বা চর্চা করবেন সে সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা নেই। IELTS এর কথা বললেই সবাই এই বই গুলোর কথা বলে, তবে প্রাক্টিসের আগে দরকার নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি আর তার জন্য দরকার অন্যান্য সহায়ক বই । Cambridge IELTS Series বইগুলো অনেকটা টেস্ট পেপারের মত। আগে বিষয় ভিত্তিক পড়া শেষ করে তবেই আমরা টেস্ট দেই, তাইনা?

উপরে উল্লেখিত বই গুলো আপনার ইংলিশে দক্ষতা বৃদ্ধিতে ও প্রস্তুতিতে অনেক বেশি সহায়ক হবে। তবে একটা বই কিছুটা পড়ে আবার অন্য বই শুরু না করাই ভাল। ধৈর্য ধরে সামনে এগিয়ে যান, সফলতা আসবেই।

বইগুলো সুলভ মূল্যে হোম ডেলিভারি পেতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন, মাত্র ৪৮ ঘন্টায় পৌছে দেব বাংলাদেশের যেকোন প্রান্তে।

সবশেষে বলতে চাই, যেকোন প্রাক্টিস টেস্ট দেয়ার সময় অবশ্যই হার্ডকপি ব্যবহার করুন। যদি পিডিএফ ব্যবহার করেন তো প্রিন্ট দিয়ে নিন। কম্পিউটারে পিডিএফ দেখে এন্সার টাইপ করা, আর আসল IELTS টেস্টের মধ্যে প্রর্থক্য আছে। অনলাইনে অনেক ‘ফ্রি মেটেরিয়াল’ পাওয়া যায়, তবে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ থাকে। IELTS একটি ব্যায়বহুল টেস্ট, তাই খরচটা যেন বৃথা না যায় সেজন্য নিজের প্রস্তুতিতেও কিছুটা খরচ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *